অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) ১৬তম আসরের জন্য বাংলাদেশি লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে ধরে রেখেছে হোবার্ট হারিকেন্স। আগামী মৌসুমে দলটির স্পিন আক্রমণে রিশাদের সঙ্গী হিসেবে থাকছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পক্ষ থেকে রিশাদকে দলে রাখার বিষয়টি জানানো হয়।
বিগ ব্যাশে অভিষেক মৌসুমেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনার। গত আসরে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার পাশাপাশি মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিটির বর্ষসেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন রিশাদ।
গত মৌসুমে ২০.৮৬ গড়ে এবং ওভারপ্রতি ৭.৮২ রান খরচ করে বোলিং করেন তিনি। এক ম্যাচে ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার ছিল তাঁর সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।
রিশাদকে দলে ধরে রাখার সিদ্ধান্তে তাঁর নিজের আগ্রহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন হোবার্ট হারিকেন্সের হাই পারফরম্যান্স বিভাগের ম্যানেজার সালিয়ান বিমস।
তিনি বলেন, গত মৌসুমে হোবার্টে রিশাদের সময় ভালো কেটেছে এবং তিনি আবারও ফিরতে চান—বিষয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে স্পষ্ট ছিল। দল গঠনের পরিকল্পনায় অ্যাডাম জাম্পাকে যুক্ত করার পর কিছু পরিবর্তন এলেও রিশাদের মতো মানসম্পন্ন খেলোয়াড়কে ফেরানোর সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চেয়েছে হোবার্ট।
রিশাদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বিমস আরও বলেন, প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলতে এসে প্রতিটি ম্যাচে অংশ নেওয়া এবং দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়া তাঁর দক্ষতা ও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার প্রমাণ।
এর আগে ২০২৪ সালেও রিশাদকে দলে নিয়েছিল হোবার্ট হারিকেন্স। তবে সে সময় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ও বিগ ব্যাশের সূচি একই সময়ে হওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাঁকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেয়নি।
পরবর্তী সময়ে গত মৌসুমে পুরো বিগ ব্যাশ খেলার সুযোগ দিতে রিশাদকে বিপিএল থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। এবারও বিগ ব্যাশে তাঁর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিপিএলের সূচি ও বিসিবির সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে রিশাদের খেলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতার বিষয়টিও নজরে থাকবে।